• বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের হস্তক্ষেপ অক্ষুণ্ন

জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের হস্তক্ষেপ অক্ষুণ্ন

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর তাদের বিরোধী শাসকশ্রেণি এবং অন্তর্বর্তী সরকার, বিশেষত জামাতসহ ধর্মবাদী দলগুলো এবং এনসিপি বহুত হৈ চৈ করছে তারা দেশের সার্বভৌম রক্ষায় আধিপত্যবাদ বিরোধী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা ভারতের সাথে আপস করেই চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনা সরকারের করা ভারতের সাথে কোনো চুক্তিই প্রকাশ ও বাতিল করেনি। তা নিয়ে এদের তেমন কোনো উচ্চবাচ্যও নেই। বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীরাও ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নসিহত হরদম করে যাচ্ছে। জামাত প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ভাব দেখালেও তলে তলে সম্পর্ক রেখে চলেছে। জামাত-শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি, আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক এখন প্রকাশিত। কেউ কেউ আন্তরিক ভাবে ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে বললেও সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষ করে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের কণ্ঠ নীরব।

 ধরে নেয়া ভুল নয় যে, ভারতের কথা বেশি করে বলার আড়ালে সাম্রাজ্যবাদের দালালি করা হচ্ছে, অন্ততপক্ষে অসচেতনভাবে সাম্রাজ্যবাদকে ডেকে আনা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে তুলে দেয়াটা তারই অংশ। এখন গাযা নিয়ন্ত্রণ মার্কিনের দালালির অংশ হিসেবে তারা সৈন্যও পাঠাবে বলছে। বিএনপি, জামাত, এনসিপিসহ এমনকি বুর্জোয়া বাম দলগুলো মার্কিন-চীনসহ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে ঘন ঘন সফর করছে তাদের আশ্বীর্বাদ পাওয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে তারা কী সব বিষয়ে আশ্বস্থ করছে তা জানার উপায় জনগণের নেই। 

২৩ সেপ্টেম্বর ’২৫ ড. ইউনূস বড় দলগুলোসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে জোরেসোরে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন সিইসি’র সাথে সাক্ষাত করে নির্বাচন প্রশ্নে খোঁজখবর নেয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও নির্বাচন প্রশ্নে বিভিন্ন হেদায়ত করে যাচ্ছে বুর্জোয়া দলগুলোর সাথে দেখা-সাক্ষাত করে। সম্প্রতি ময়মনসিংহে হিন্দু যুবকের মৃত্যু নিয়ে ভারত যখন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির অজুহাত খুঁজছিল এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল– তখন রাশিয়া মুরুব্বির-দম্ভে হুকুম জারি করে বাংলাদেশ-ভারত যেন তাদের সমস্যা মিটিয়ে ফেলে। চীন ভালো মানুষের মতো বলে যাচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই। ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না’– এই আর কি! 

’২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন ভারত চায়নি। বরং হাসিনাকে এখন ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আদালতে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হলেও ভারত তা ভ্রুক্ষেপ করছে না। বরং অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশ বিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচার করে অব্যাহত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ময়মনসিংহের ভালুকায় এক হিন্দু যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের কার্যক্রম উপরেই বলা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্যসহ বিভিন্নভাবেই বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে আইপিএল চুক্তি থেকে বাতিল তারই নগ্ন দৃষ্টান্ত।  

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে জামাতের আমির শফিকুরের সাথে ভারতের কূটনীতিবিদদের গোপন বৈঠকের খবর। তাদের মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে তা জানা না গেলেও শফিকুর রহমান এটা প্রকাশ করেছে ভারতের প্রতিনিধি তাকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিল। জামাতও ভারতের এ অনুরোধ বিশ্বস্ততার সাথে পালন করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাম্রাজ্যবাদের বিশেষত মার্কিনের হস্তক্ষেপ ও মদদে হাসিনা-আওয়ামী বিরোধী শাসকশ্রেণির ভিন্ন গোষ্ঠী ‘গণতন্ত্র’ পুনরুদ্ধারের নামে ক্ষমতা দখল করেছে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন সকল সাম্রাজ্যবাদ-ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ হস্তক্ষেপ করে চলেছে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে। বুর্জোয়া দলগুলোও তাদের আশীর্বাদ নিয়ে ক্ষমতায় যেতে সিদ্ধহস্ত। অতীতেও এটা সর্বদাই হয়েছে, এখনো হচ্ছে।  

শাসকশ্রেণির এই হচ্ছে সার্বভৌমত্ব রক্ষার নমুনা। স্পষ্টতই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহির্শক্তির হস্তক্ষেপ বদলায়নি। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের পরিপূর্ণ উচ্ছেদ দাবি করতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের হস্তক্ষেপ অক্ষুণ্ন

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

হাসিনা-আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর তাদের বিরোধী শাসকশ্রেণি এবং অন্তর্বর্তী সরকার, বিশেষত জামাতসহ ধর্মবাদী দলগুলো এবং এনসিপি বহুত হৈ চৈ করছে তারা দেশের সার্বভৌম রক্ষায় আধিপত্যবাদ বিরোধী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা ভারতের সাথে আপস করেই চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনা সরকারের করা ভারতের সাথে কোনো চুক্তিই প্রকাশ ও বাতিল করেনি। তা নিয়ে এদের তেমন কোনো উচ্চবাচ্যও নেই। বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীরাও ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নসিহত হরদম করে যাচ্ছে। জামাত প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ভাব দেখালেও তলে তলে সম্পর্ক রেখে চলেছে। জামাত-শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি, আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক এখন প্রকাশিত। কেউ কেউ আন্তরিক ভাবে ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে বললেও সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষ করে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের কণ্ঠ নীরব।

 ধরে নেয়া ভুল নয় যে, ভারতের কথা বেশি করে বলার আড়ালে সাম্রাজ্যবাদের দালালি করা হচ্ছে, অন্ততপক্ষে অসচেতনভাবে সাম্রাজ্যবাদকে ডেকে আনা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে তুলে দেয়াটা তারই অংশ। এখন গাযা নিয়ন্ত্রণ মার্কিনের দালালির অংশ হিসেবে তারা সৈন্যও পাঠাবে বলছে। বিএনপি, জামাত, এনসিপিসহ এমনকি বুর্জোয়া বাম দলগুলো মার্কিন-চীনসহ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে ঘন ঘন সফর করছে তাদের আশ্বীর্বাদ পাওয়ার জন্য। সেখানে গিয়ে তারা কী সব বিষয়ে আশ্বস্থ করছে তা জানার উপায় জনগণের নেই। 

২৩ সেপ্টেম্বর ’২৫ ড. ইউনূস বড় দলগুলোসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে জোরেসোরে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন সিইসি’র সাথে সাক্ষাত করে নির্বাচন প্রশ্নে খোঁজখবর নেয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও নির্বাচন প্রশ্নে বিভিন্ন হেদায়ত করে যাচ্ছে বুর্জোয়া দলগুলোর সাথে দেখা-সাক্ষাত করে। সম্প্রতি ময়মনসিংহে হিন্দু যুবকের মৃত্যু নিয়ে ভারত যখন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির অজুহাত খুঁজছিল এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল– তখন রাশিয়া মুরুব্বির-দম্ভে হুকুম জারি করে বাংলাদেশ-ভারত যেন তাদের সমস্যা মিটিয়ে ফেলে। চীন ভালো মানুষের মতো বলে যাচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই। ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না’– এই আর কি! 

’২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতন ভারত চায়নি। বরং হাসিনাকে এখন ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আদালতে হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হলেও ভারত তা ভ্রুক্ষেপ করছে না। বরং অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশ বিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচার করে অব্যাহত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ময়মনসিংহের ভালুকায় এক হিন্দু যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের কার্যক্রম উপরেই বলা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্যসহ বিভিন্নভাবেই বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। ক্রিকেটার মুস্তাফিজকে আইপিএল চুক্তি থেকে বাতিল তারই নগ্ন দৃষ্টান্ত।  

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে জামাতের আমির শফিকুরের সাথে ভারতের কূটনীতিবিদদের গোপন বৈঠকের খবর। তাদের মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে তা জানা না গেলেও শফিকুর রহমান এটা প্রকাশ করেছে ভারতের প্রতিনিধি তাকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিল। জামাতও ভারতের এ অনুরোধ বিশ্বস্ততার সাথে পালন করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাম্রাজ্যবাদের বিশেষত মার্কিনের হস্তক্ষেপ ও মদদে হাসিনা-আওয়ামী বিরোধী শাসকশ্রেণির ভিন্ন গোষ্ঠী ‘গণতন্ত্র’ পুনরুদ্ধারের নামে ক্ষমতা দখল করেছে। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন সকল সাম্রাজ্যবাদ-ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ হস্তক্ষেপ করে চলেছে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে। বুর্জোয়া দলগুলোও তাদের আশীর্বাদ নিয়ে ক্ষমতায় যেতে সিদ্ধহস্ত। অতীতেও এটা সর্বদাই হয়েছে, এখনো হচ্ছে।  

শাসকশ্রেণির এই হচ্ছে সার্বভৌমত্ব রক্ষার নমুনা। স্পষ্টতই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহির্শক্তির হস্তক্ষেপ বদলায়নি। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের পরিপূর্ণ উচ্ছেদ দাবি করতে হবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র