• বৃহঃস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
সাম্রাজ্যবাদ এবং ধর্মীয় মৌলবাদ উভয়ই বিশ্ব জনগণের শত্রু
সাম্রাজ্যবাদ এবং ধর্মীয় মৌলবাদ উভয়ই বিশ্ব জনগণের শত্রু

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৫ সালে ফ্রান্সের শার্লি এবদো ম্যাগাজিন ইসলামের নবী মুহাম্মদকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র (কার্টুন) প্রকাশ করেছিল। ২০১৫ সালের ৭-৯ জানুয়ারি প্যারিসে অবস্থিত ম্যাগাজিনটির সদর দপ্তরে, একটি সাধারণ মুদিদোকানে ও প্যারিসের উপকণ্ঠে উগ্র ইসলামী ধর্মবাদীরা তিনটি হামলা চালিয়েছিল। তাতে ১৭ জন নিহত হয়েছিলেন।

এ বছর ৩০ সেপ্টেম্বর, শার্লি এবদো ম্যাগাজিনটি নবী মুহাম্মদের ব্যঙ্গচিত্র পুনরায় প্রকাশ করে। একজন স্কুল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নবী মুহাম্মদের কার্টুন দেখিয়েছিলেন। ফলে এই শিক্ষককেও ইসলামী ধর্মবাদীরা ১৬ অক্টোবর গলা কেটে হত্যা করে। তার প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এই হামলার ঘটনার নিন্দা করে এবং ধর্মবিরোধী বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে নাগরিকের অধিকার বলে মত প্রকাশ করে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসলামী ধর্মবাদীরা বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ মুখর হয়েছে। শুধু তাই নয়, উগ্র ইসলামী ধর্মবাদীরা গির্জায় হামলা চালিয়ে আরো ৩ জনকে হত্যা করেছে।

পৃথিবীতে এমন কোনো ধর্মবাদী কি আছেন (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি) যিনি/যারা তার ধর্মের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, হাসি-ঠাট্টা করলে বিনা প্রতিবাদে ছেড়ে দেবেন বা মেনে নিবেন। ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা এমনকি রাজনৈতিক উচ্চমহল মাখোঁর বক্তব্যকে সমর্থন দিয়ে টুইট করছে। যারা নাকি গো-মাংস খাওয়ার ‘অপরাধে’ মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যা করছে। শ্রীকৃষ্ণ বা রামকে নিয়ে কেউ যদি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে তারাও একই প্রতিক্রিয়া দেখাবে। খ্রিষ্টান ধর্মের যিশু, মেরী মাতাকে নিয়ে কেউ একইরূপ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলে আমেরিকার প্রশাসন, এবং খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা,বিশেষত খ্রিষ্টান মৌলবাদীরা কি সহজভাবে মেনে নিবে?

সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ এবং দালাল শাসকশ্রেণি ধর্মের ভিত্তিতে জনগণকে বিভক্ত করে রেখেছে। তারা জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে দেশে দেশে তাদের আধিপত্য বিস্তার করছে, লুট-পাট করছে। নিজ নিজ দেশে ক্ষমতায় টিকে থাকছে আর জনগণকে শোষণ-লুটপাট করছে।

ইসলামী মৌলবাদীদের হামলা-হত্যা নিন্দনীয় হলেও এর জন্য ফ্রান্স সহ সাম্রজ্যবাদীরাও একই রূপ, বা তার চেয়ে বেশি দায়ী। কারণ সাম্রজ্যবাদীরাই ধর্মান্ধতা সৃষ্টি করে এবং সারা বিশ্বে বিভিন্ন ধর্মের মৌলবাদীদের সৃষ্টি করে ও মদদ দিয়ে ধর্মীয় উন্মাদনাকে উস্কে দিয়ে জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও দাঙ্গা সৃষ্টি করে নিজেরা ফায়দা লুটে। ব্রিটিশের ভারত বিভক্তির সময় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা তার নিকৃষ্টতম উদাহরণ। এমানুয়েল মাখোঁ প্রকারান্তরে মুসলিম ধর্মবাদীদের উস্কে দিচ্ছে। আর ইসলামী ধর্মবাদীরা মুসলিম জনগণের ধর্মীয় অনভূতিকে কাজে লাগিয়ে অন্য ধর্মের জনগণের উপর ফ্যাসিবাদী হামলা ও হত্যা করে চলেছে। এরা প্রত্যেকেই প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে এক ধর্মান্ধ, পশ্চাদপদ প্রতিক্রিয়াশীল মূল্যবোধকে লালন-পালন করছে এবং জনগণকে তাতে আচ্ছন্ন করে রাখতে চাইছে।

ধর্মপ্রশ্নে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা/সমালোচনা/গবেষণার অধিকার অবশ্যই থাকতে হবে। তবে সমালোনা/গবেষণা আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ এক কথা নয়। তবে কোনটাকে অবমাননা আর কোনটাকে গঠনমূলক/বিজ্ঞানসম্মত সমালোচনা বলা হবে তা-ও খুবই বিতর্কিত বিষয়। ধর্মঅন্তঃপ্রাণ মানুষের জন্য যা অবমাননা অন্য কারো কাছে সেটাই বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা হতে পারে। আর পৃথিবীর সমস্ত ধরনের সমালোচনা সাহিত্যে ব্যঙ্গ থাকে, বিদ্রুপও থাকে। গণতান্ত্রিক সমাজ এ ধরনের সমালোচনা বন্ধ করে দিতে পারে না। যে সমাজ বন্ধ করে দেয় তখন সে সমাজ নিজেই  ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে।

ধর্মীয় মৌলবাদ বর্তমান বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার অধীন পশ্চাদপদ ধ্যান-ধারণাপূর্ণ মধ্যযুগীয় বর্বরতার ধারক, বিজ্ঞান-ভিত্তিক শোষণ-মুক্ত সমাজ ও সভ্যতা-বিরোধী সাম্রাজ্যবাদের হাতিয়ার মাত্র। সুতরাং সারা বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের সকল ধর্ম, ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তাকে সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল শাসকদের এবং তাদের ব্যবস্থাকে উচ্ছেদের জন্য এবং সকল ধর্মীয় মৌলবাদী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সাম্রাজ্যবাদ এবং ধর্মীয় মৌলবাদ উভয়ই বিশ্ব জনগণের শত্রু

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০  |  অনলাইন সংস্করণ

২০১৫ সালে ফ্রান্সের শার্লি এবদো ম্যাগাজিন ইসলামের নবী মুহাম্মদকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র (কার্টুন) প্রকাশ করেছিল। ২০১৫ সালের ৭-৯ জানুয়ারি প্যারিসে অবস্থিত ম্যাগাজিনটির সদর দপ্তরে, একটি সাধারণ মুদিদোকানে ও প্যারিসের উপকণ্ঠে উগ্র ইসলামী ধর্মবাদীরা তিনটি হামলা চালিয়েছিল। তাতে ১৭ জন নিহত হয়েছিলেন।

এ বছর ৩০ সেপ্টেম্বর, শার্লি এবদো ম্যাগাজিনটি নবী মুহাম্মদের ব্যঙ্গচিত্র পুনরায় প্রকাশ করে। একজন স্কুল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নবী মুহাম্মদের কার্টুন দেখিয়েছিলেন। ফলে এই শিক্ষককেও ইসলামী ধর্মবাদীরা ১৬ অক্টোবর গলা কেটে হত্যা করে। তার প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এই হামলার ঘটনার নিন্দা করে এবং ধর্মবিরোধী বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে নাগরিকের অধিকার বলে মত প্রকাশ করে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসলামী ধর্মবাদীরা বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ মুখর হয়েছে। শুধু তাই নয়, উগ্র ইসলামী ধর্মবাদীরা গির্জায় হামলা চালিয়ে আরো ৩ জনকে হত্যা করেছে।

পৃথিবীতে এমন কোনো ধর্মবাদী কি আছেন (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ইহুদি) যিনি/যারা তার ধর্মের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, হাসি-ঠাট্টা করলে বিনা প্রতিবাদে ছেড়ে দেবেন বা মেনে নিবেন। ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা এমনকি রাজনৈতিক উচ্চমহল মাখোঁর বক্তব্যকে সমর্থন দিয়ে টুইট করছে। যারা নাকি গো-মাংস খাওয়ার ‘অপরাধে’ মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যা করছে। শ্রীকৃষ্ণ বা রামকে নিয়ে কেউ যদি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে তারাও একই প্রতিক্রিয়া দেখাবে। খ্রিষ্টান ধর্মের যিশু, মেরী মাতাকে নিয়ে কেউ একইরূপ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করলে আমেরিকার প্রশাসন, এবং খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা,বিশেষত খ্রিষ্টান মৌলবাদীরা কি সহজভাবে মেনে নিবে?

সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ এবং দালাল শাসকশ্রেণি ধর্মের ভিত্তিতে জনগণকে বিভক্ত করে রেখেছে। তারা জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে দেশে দেশে তাদের আধিপত্য বিস্তার করছে, লুট-পাট করছে। নিজ নিজ দেশে ক্ষমতায় টিকে থাকছে আর জনগণকে শোষণ-লুটপাট করছে।

ইসলামী মৌলবাদীদের হামলা-হত্যা নিন্দনীয় হলেও এর জন্য ফ্রান্স সহ সাম্রজ্যবাদীরাও একই রূপ, বা তার চেয়ে বেশি দায়ী। কারণ সাম্রজ্যবাদীরাই ধর্মান্ধতা সৃষ্টি করে এবং সারা বিশ্বে বিভিন্ন ধর্মের মৌলবাদীদের সৃষ্টি করে ও মদদ দিয়ে ধর্মীয় উন্মাদনাকে উস্কে দিয়ে জনগণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও দাঙ্গা সৃষ্টি করে নিজেরা ফায়দা লুটে। ব্রিটিশের ভারত বিভক্তির সময় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা তার নিকৃষ্টতম উদাহরণ। এমানুয়েল মাখোঁ প্রকারান্তরে মুসলিম ধর্মবাদীদের উস্কে দিচ্ছে। আর ইসলামী ধর্মবাদীরা মুসলিম জনগণের ধর্মীয় অনভূতিকে কাজে লাগিয়ে অন্য ধর্মের জনগণের উপর ফ্যাসিবাদী হামলা ও হত্যা করে চলেছে। এরা প্রত্যেকেই প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে এক ধর্মান্ধ, পশ্চাদপদ প্রতিক্রিয়াশীল মূল্যবোধকে লালন-পালন করছে এবং জনগণকে তাতে আচ্ছন্ন করে রাখতে চাইছে।

ধর্মপ্রশ্নে বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা/সমালোচনা/গবেষণার অধিকার অবশ্যই থাকতে হবে। তবে সমালোনা/গবেষণা আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ এক কথা নয়। তবে কোনটাকে অবমাননা আর কোনটাকে গঠনমূলক/বিজ্ঞানসম্মত সমালোচনা বলা হবে তা-ও খুবই বিতর্কিত বিষয়। ধর্মঅন্তঃপ্রাণ মানুষের জন্য যা অবমাননা অন্য কারো কাছে সেটাই বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা হতে পারে। আর পৃথিবীর সমস্ত ধরনের সমালোচনা সাহিত্যে ব্যঙ্গ থাকে, বিদ্রুপও থাকে। গণতান্ত্রিক সমাজ এ ধরনের সমালোচনা বন্ধ করে দিতে পারে না। যে সমাজ বন্ধ করে দেয় তখন সে সমাজ নিজেই  ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠে।

ধর্মীয় মৌলবাদ বর্তমান বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার অধীন পশ্চাদপদ ধ্যান-ধারণাপূর্ণ মধ্যযুগীয় বর্বরতার ধারক, বিজ্ঞান-ভিত্তিক শোষণ-মুক্ত সমাজ ও সভ্যতা-বিরোধী সাম্রাজ্যবাদের হাতিয়ার মাত্র। সুতরাং সারা বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের সকল ধর্ম, ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তাকে সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল শাসকদের এবং তাদের ব্যবস্থাকে উচ্ছেদের জন্য এবং সকল ধর্মীয় মৌলবাদী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র