• শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের হস্তক্ষেপ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের হস্তক্ষেপ

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ধারণ করে বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কে ক্ষমতায় আসবে আর কে বিরোধী দলে থাকবে। নির্বাচন এলে প্রভুদের সন্তুষ্ট রাখতে কে কত বেশি গণবিরোধী চুক্তি করতে পারে তার নগ্ন প্রতিযোগিতা চলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। আবার সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের কাছে কোন রাজনৈতিক দল বেশি অনুগত, বেশী স্বার্থ রক্ষা করবে সে বিবেচনায় প্রভুরা ক্ষমতায় আনে বা ক্ষমতার বাইরে রাখে। মুখে তারা নিরপেক্ষতার যত বুলিই ঝাড়ুক না কেন।

এবারের জাতীয় নির্বাচনে আন্ত-সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের তীব্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চীনের সাথে হাসিনা সরকারের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ ভালো চোখে দেখছে না। বিশেষ করে পদ্মা সেতুকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্ব ব্যাংকের বদলে চীনের সহায়তা নিয়ে হাসিনার বৈতরণী পার হবার পর থেকে এটা আরো তীব্র হয়েছে। চীন এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অ লকে নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কিনকে টেক্কা দিতে চাইছে। চীনকে রুখতে মার্কিন, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া এবং ভারত কোয়াড গঠন করেছে। এখন মার্কিন-জাপান চাইছে বাংলাদেশ এই কোয়াডে যুক্ত হোক। এজন্য বিভিন্নভাবেই যুক্তরাষ্ট্র হাসিনা সরকারকে বিভিন্ন স্যাংশন দিয়ে চাপে রাখছে, বিরোধী বিএনপি-জোটকে মদদ দিচ্ছে, মার্কিনের ‘গণতন্ত্র’ সম্মেলনে বাংলাদেশকে দাওয়াত দিচ্ছে না– ইত্যাদি। এ সবের প্রভাব এখন জাতীয় নির্বাচনে পড়ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন কর্মকর্তারা ঘন ঘন বাংলাদেশ সফর করছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কুটনীতিকেরা বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, বিএনাপ’র সাথে বৈঠক করছে। 

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাউন্সিলর ডেরেক শোলে সরকার ও সরকারের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে বলেছে– অবাধ ও সুষ্ঠু নর্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। মানবাধিকার সুরক্ষায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতাবলম্বীরা যাতে হেনস্তার শিকার না হয়, সেটাও গুরুত্বের সঙ্গে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত জানুয়রি মাসে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ঢাকা সফর করেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ইইউ’র রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির নেতৃত্বে ইইউ’র একটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের সাথে বৈঠক করে বলে– আগামী সংসদ নির্বাচনে অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন তারা দেখতে চায়। তারা চায় বিএনপিসহ সব দল অংশগ্রহণ করবে। তারা জানায় আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দলও পাঠাবে। উল্লেখ্য ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। গত ২৬ মার্চ’২৩ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শেখ হাসিনাকে এক শুভেচ্ছা বার্তায় বলে– ‘বাংলাদেশের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময় মনে করিয়ে দিতে চাই যে আমাদের দুই দেশ গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়’।

গত ১৩ মার্চ কাতার সফর নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল– নির্বাচন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক চাপ অনুভব করছে কি না? উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলে–....... কে কী চাপ দিল না দিল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। ......পদ্মা সেতুর আগে তো কম চাপ দেওয়া হয়নি। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বিদেশি চাপের বিষয়টা স্বীকার করেছে। জাপানের রাষ্ট্রদূত গত নভেম্বরে মন্তব্য করেছে– “গত নির্বাচনে আগের রাতেই পুলিশ ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছিল বলে আমি শুনেছি। অন্য কোনো দেশে এমন দৃষ্টান্ত নেই। আামি আশা করবো এবার তেমন সুযোগ থাকবে না বা এমন ঘটনা ঘটবে না”। এই বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। বিদেদিশের এমন বক্তব্য মূলত বিএনপি’র পক্ষে যায়।

অপরদিকে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সফর করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় খাতরা। তখন তিনি বলে গেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তাঁর দেশের পূর্ণ সমর্থ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন– তিনি নির্বাচনের আগে বিদেশি চাপ আমলে নিচ্ছেন না। এর পরদিনই ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন– অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে, চীন তা সমর্থন করে। এই সব বক্তব্য শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়। 

কিন্তু বিদেশি হস্তক্ষেপ ও বিদেশিদের সাথে যোগসাজশ বুর্জোয়া দুই দলই একদিকে অস্বীকার করে। অন্যদিকে বিদেশিদের বক্তব্য নিজ নিজ দল/গোষ্ঠীর বিপক্ষে গেলেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। আওয়ামী লীগ এখন দেখছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমারা বিএনপি’র সমর্থনে কথা বলছে– তাই তারা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের সমালোচনা করছে। কিছুদিন আগে সংসদে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গরল উগরে দিয়েছে। পরপরই তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের খুব ভালো বন্ধু। অন্যদিকে বিএনপি বলছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা থেকে কথা বলছে। আবার বিএনপি এও বলছে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানে বাংলাদেশের অবস্থান সমর্থনের কথা বলে চীনের রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে। 

নির্বাচনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী গবেষকরাও স্বীকার করেন। কিন্তু একে তারা তাদের বুর্জোয়া দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র দুর্বলতা এবং তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে বিদেশিদের সুযোগ নেয়া হিসেবে দেখেন। মূলত বাংলাদেশের শাসকশ্রেণি সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল। তারা সাম্রাজ্যবাদের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় যেতে ও টিকে থাকতে পারে না। বিদেশের সমর্থন পেতেই শেখ হাসিনা ঘন ঘন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিদেশ সফর করছেন। এবারের জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের ১৫ দিনের সফরে প্রভুদের পক্ষে আনাই প্রধান উদ্দেশ্য। বিভিন্ন চুক্তির মধ্য দিয়ে তাদের খুশি করতেই এই সফর। এগুলো হচ্ছে দালাল শাসকশ্রেণির শ্রেণিচরিত্র।

তবে হাসিনার ’১৮ সালের নির্বাচনের মতো ’২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে পার পাওয়া সহজ হবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।  কারণ, শাসকশ্রেণির বিদেশি প্রভুরা নিজেরাই এখন তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিজ বলয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাই তারা করবে। সেজন্য তারা উভয় গোষ্ঠীর সাথে ব্যালেন্স-ওয়ালা দালাল বদলে ফেলতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতেই পারে। কিন্তু এসবে দেশ ও জনগণের কোনো স্বার্থ নেই। এই বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদীদেরকে ও তাদের দেশীয় দালালদেরকে সমূলে উচ্ছেদই সময়ের দাবি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের হস্তক্ষেপ

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ধারণ করে বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কে ক্ষমতায় আসবে আর কে বিরোধী দলে থাকবে। নির্বাচন এলে প্রভুদের সন্তুষ্ট রাখতে কে কত বেশি গণবিরোধী চুক্তি করতে পারে তার নগ্ন প্রতিযোগিতা চলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে। আবার সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের কাছে কোন রাজনৈতিক দল বেশি অনুগত, বেশী স্বার্থ রক্ষা করবে সে বিবেচনায় প্রভুরা ক্ষমতায় আনে বা ক্ষমতার বাইরে রাখে। মুখে তারা নিরপেক্ষতার যত বুলিই ঝাড়ুক না কেন।

এবারের জাতীয় নির্বাচনে আন্ত-সাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের তীব্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চীনের সাথে হাসিনা সরকারের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ ভালো চোখে দেখছে না। বিশেষ করে পদ্মা সেতুকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্ব ব্যাংকের বদলে চীনের সহায়তা নিয়ে হাসিনার বৈতরণী পার হবার পর থেকে এটা আরো তীব্র হয়েছে। চীন এ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অ লকে নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কিনকে টেক্কা দিতে চাইছে। চীনকে রুখতে মার্কিন, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া এবং ভারত কোয়াড গঠন করেছে। এখন মার্কিন-জাপান চাইছে বাংলাদেশ এই কোয়াডে যুক্ত হোক। এজন্য বিভিন্নভাবেই যুক্তরাষ্ট্র হাসিনা সরকারকে বিভিন্ন স্যাংশন দিয়ে চাপে রাখছে, বিরোধী বিএনপি-জোটকে মদদ দিচ্ছে, মার্কিনের ‘গণতন্ত্র’ সম্মেলনে বাংলাদেশকে দাওয়াত দিচ্ছে না– ইত্যাদি। এ সবের প্রভাব এখন জাতীয় নির্বাচনে পড়ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন কর্মকর্তারা ঘন ঘন বাংলাদেশ সফর করছে। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কুটনীতিকেরা বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, বিএনাপ’র সাথে বৈঠক করছে। 

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাউন্সিলর ডেরেক শোলে সরকার ও সরকারের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে বলেছে– অবাধ ও সুষ্ঠু নর্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। মানবাধিকার সুরক্ষায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতাবলম্বীরা যাতে হেনস্তার শিকার না হয়, সেটাও গুরুত্বের সঙ্গে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত জানুয়রি মাসে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ঢাকা সফর করেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ইইউ’র রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির নেতৃত্বে ইইউ’র একটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের সাথে বৈঠক করে বলে– আগামী সংসদ নির্বাচনে অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন তারা দেখতে চায়। তারা চায় বিএনপিসহ সব দল অংশগ্রহণ করবে। তারা জানায় আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দলও পাঠাবে। উল্লেখ্য ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। গত ২৬ মার্চ’২৩ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শেখ হাসিনাকে এক শুভেচ্ছা বার্তায় বলে– ‘বাংলাদেশের নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময় মনে করিয়ে দিতে চাই যে আমাদের দুই দেশ গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়’।

গত ১৩ মার্চ কাতার সফর নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল– নির্বাচন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক চাপ অনুভব করছে কি না? উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলে–....... কে কী চাপ দিল না দিল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। ......পদ্মা সেতুর আগে তো কম চাপ দেওয়া হয়নি। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বিদেশি চাপের বিষয়টা স্বীকার করেছে। জাপানের রাষ্ট্রদূত গত নভেম্বরে মন্তব্য করেছে– “গত নির্বাচনে আগের রাতেই পুলিশ ব্যালট বাক্স ভর্তি করেছিল বলে আমি শুনেছি। অন্য কোনো দেশে এমন দৃষ্টান্ত নেই। আামি আশা করবো এবার তেমন সুযোগ থাকবে না বা এমন ঘটনা ঘটবে না”। এই বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। বিদেদিশের এমন বক্তব্য মূলত বিএনপি’র পক্ষে যায়।

অপরদিকে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সফর করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় খাতরা। তখন তিনি বলে গেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তাঁর দেশের পূর্ণ সমর্থ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন– তিনি নির্বাচনের আগে বিদেশি চাপ আমলে নিচ্ছেন না। এর পরদিনই ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন– অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে, চীন তা সমর্থন করে। এই সব বক্তব্য শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়। 

কিন্তু বিদেশি হস্তক্ষেপ ও বিদেশিদের সাথে যোগসাজশ বুর্জোয়া দুই দলই একদিকে অস্বীকার করে। অন্যদিকে বিদেশিদের বক্তব্য নিজ নিজ দল/গোষ্ঠীর বিপক্ষে গেলেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। আওয়ামী লীগ এখন দেখছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমারা বিএনপি’র সমর্থনে কথা বলছে– তাই তারা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের সমালোচনা করছে। কিছুদিন আগে সংসদে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গরল উগরে দিয়েছে। পরপরই তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের খুব ভালো বন্ধু। অন্যদিকে বিএনপি বলছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা থেকে কথা বলছে। আবার বিএনপি এও বলছে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানে বাংলাদেশের অবস্থান সমর্থনের কথা বলে চীনের রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে। 

নির্বাচনে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী গবেষকরাও স্বীকার করেন। কিন্তু একে তারা তাদের বুর্জোয়া দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র দুর্বলতা এবং তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে বিদেশিদের সুযোগ নেয়া হিসেবে দেখেন। মূলত বাংলাদেশের শাসকশ্রেণি সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল। তারা সাম্রাজ্যবাদের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় যেতে ও টিকে থাকতে পারে না। বিদেশের সমর্থন পেতেই শেখ হাসিনা ঘন ঘন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিদেশ সফর করছেন। এবারের জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের ১৫ দিনের সফরে প্রভুদের পক্ষে আনাই প্রধান উদ্দেশ্য। বিভিন্ন চুক্তির মধ্য দিয়ে তাদের খুশি করতেই এই সফর। এগুলো হচ্ছে দালাল শাসকশ্রেণির শ্রেণিচরিত্র।

তবে হাসিনার ’১৮ সালের নির্বাচনের মতো ’২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে পার পাওয়া সহজ হবে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।  কারণ, শাসকশ্রেণির বিদেশি প্রভুরা নিজেরাই এখন তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিজ বলয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাই তারা করবে। সেজন্য তারা উভয় গোষ্ঠীর সাথে ব্যালেন্স-ওয়ালা দালাল বদলে ফেলতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতেই পারে। কিন্তু এসবে দেশ ও জনগণের কোনো স্বার্থ নেই। এই বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদীদেরকে ও তাদের দেশীয় দালালদেরকে সমূলে উচ্ছেদই সময়ের দাবি।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র