• সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
ঢাকার বঙ্গবাজারসহ কয়েকটি মার্কেটে রহস্যজনক আগুন হাজার কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই, নিঃস্ব মানুষ
ঢাকার বঙ্গবাজারসহ কয়েকটি মার্কেটে রহস্যজনক আগুন হাজার কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই, নিঃস্ব মানুষ

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেই চলছে। এপ্রিল ৪ তারিখে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়েছে দেশের সবচাইতে বৃহৎ কাপড়ের মার্কেট ঢাকার বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স। এই কমপ্লেক্সে চারটি বিপনীবিতান– বঙ্গবাজার, গুলিস্তান, মহানগরী ও আদর্শ মার্কেট। আশে-পাশের বিপনীবিতানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মতে শুধু বঙ্গবাজারেই ৫ হাজার ব্যবসায়ীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা; ১৫ হাজারের বেশি কর্মচারী সব হারিয়ে পথে পড়ে গেছেন। বঙ্গবাজার মার্কেটটি স্বল্পআয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ে পণ্য কেনার বাজারও বটে। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। ব্যবাসায়ীরা নিঃস্ব হয়েছেন। আগুন নেভাতে ফায়ার স্টেশন ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গবাজারের আগুন নেভাতে পানি ছিল না। এতো উন্নয়ন! তবু এতো কাছের আগুনের হামলা এ রাষ্ট্র মোকাবিলা করতে পারছে না।

এটা কি নিছক দুর্ঘটনা– যা কিনা দেখাতে চাইছে সরকারের বড় বড় চাঁইরা? নাকি কোনো ষড়যন্ত্র ছিল– অনেক দোকান মালিকই যা বলছেন? এ অগ্নিকাণ্ডে লাভ হলো কার? জমির মালিক হবার দৌড়ে কারা ছিল? মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সস্তা কাপড়ের প্রতিদ্বন্দ্বী কারা ছিল? সরকার এগুলো খতিয়ে দেখবে না। কারণ তা হলে নিজের গায়েই এসে তা পড়বে।

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অস্বীকার করেছে। এরা প্রত্যেকেই সাধারণ দোকানদারদেরকেই এর জন্য দায়ী করেছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত। ফায়ার সার্ভিস বলেছে তারা ৪ বছর পূর্বেই অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল এবং বেশ কিছু ব্যানারও টানিয়েছিল। সবাই জানতো এই কমপ্লেক্স বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু সরকারের কোনো সংস্থাই অগ্নি প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের মালিকানায় রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স ভেঙ্গে নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দোকান মালিক সমিতির নেতাদের বাধার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ভবনগুলো ভেঙ্গে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, এ ধরনের জমি দখলের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড। 

বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করতো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সব দলের নেতারা মিলেমিশে এই কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করতো। নতুন ভবন নির্মাণ হলে ব্যবসায়ীদের নেতাদের আধিপত্য কমে যাবে, তাই তারা সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে দেয়নি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পুলিশ ব্যারাক রক্ষা করতেই ব্যস্ত ছিল। ফলে ক্ষুব্ধ কিছু মানুষ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপর ইঁট-পাটকেল ছুঁড়েছিল। ‘জনদরদী’ প্রধানমন্ত্রী এদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু জমি দখল নিয়ে বড় বেনিফিসিয়ারিদের ষড়যন্ত্রকে শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেন নি। অল্প সময়ে আগুন নেভানোর ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হচ্ছে উৎসুক জনতার ভীড় ও পানির অভাবকে। বাস্তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ করে শাসকশ্রেণি এবং সরকারই খাল-বিল-ঝিল ভরাট করে ঢাকা শহর এবং আশে-পাশে পানি শূন্য করেছে। তার দায়ও তাদেরই।

এখন দেখা যাচ্ছে– বহুতল ভবন নির্মাণের চক্রান্তে আগুন লাগানো হোক বা বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের আগুন-ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও গাফিলতির কারণেই হোক, আগুন লেগে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব হওয়া এবং হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতি হওয়ার জন্য ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার, তাদের ব্যবসায়ী নেতারা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনই দায়ী। 

এ জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।  ব্যবসা করার জন্য বর্তমানে তাদেরকে উপযুক্ত যায়গা দিতে হবে, বিনাসুদে ঋণ দিতে হবে এবং বঙ্গবাজারে নতুন ভবন/অবকাঠামো নির্মাণ করে স্বল্পদামে ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান বরাদ্দ করতে হবে। দোকান কর্মচারীদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে, কাজের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা দিতে হবে। ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের  পক্ষে এই দাবি তোলা জরুরি। সর্বস্তরের জনগণকেও ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের পক্ষে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। মার্কেটগুলোকে ঘিরে আমলা, বড় বুর্জোয়া ও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর গডফাদারদের হরিলুটের অবসান করতে হবে। 

শুধু বঙ্গবাজারই নয়, বঙ্গবাজারের আগুনের পর পরই আরো কয়েকটি মার্কেট একইভাবে আগুনে পুড়ে ভষ্ম হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে শত শত শ্রমিক-জনতা আহত নিহত হচ্ছেন এবং বহু সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। গত ৪ মার্চ’২৩-এ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসুল এলাকায় “সীমা অক্সিজেন অক্সিকো লিমিটেড নামের” কারখানায় ভয়াবহ বিষ্ফোরণ ঘটে। এতে প্রাণ হারান ৭ জন, আহত হন ৩৩ জন। এই বিষ্ফোরণের একদিন পরই রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে একটি ভবনে বিষ্ফোরণে ৩ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। ৭ মার্চ ঢাকার সিদ্দিক বাজারের নর্থ সাউথ রোডের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত দুই শতাধিক। আগুনের তালিকা দিয়ে শেষ করা যাবে না। এর পরে আগুন লেগেছে নিউ মার্কেট এলাকায় আরেকটি মার্কেটে। রহস্যজনক বিষয় হলো, বড় আগুনের ঘটনাগুলো ঘটেছে ঈদের আগে এবং কাপড়ের মার্কেটগুলোতে। এর কারণ কী?

ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর প্রতিদিন গড়ে ৬৬টির বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এবং আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৮ জন। আহতের সংখ্যা চার শতাধিক। হতাহতের বেশির ভাগ ঘটনাই শিল্প-কারখানায়।

 প্রতি বছর অগ্নিকাণ্ড বা এ জাতীয় ঘটনা ঘটার পর জনরোষ নিরসনে ফ্যাসিবাদী সরকার লোক দেখানো গতানুগতিক তদন্ত কমিটি করে। কিন্তু উত্তেজনা মিইয়ে যাওয়ার পর তার কোনো হদিশ থাকে না। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েই শেষ। দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না। গণবিরোধী রাষ্ট্রব্যবস্থার সব কাঠামোই গঠিত হয় যেন-তেনভাবে, অল্প বিনিয়োগে বেশি মুনাফার উদ্দেশ্যে। সরকারি কর্মকর্তারা ঘুসের বিনিময়ে এগুলো অনুমোদন করে। জনগণের উপর তাদের কোনো দায়ভার নেই, নিজেদের আখের গুছানোই তাদের কাজ– এটিই রাষ্ট্রব্যবস্থা।  

চট্টগ্রামের বিএম কেনটেইনারের মালিক ছিল আওয়ামী লীগের নেতা। রানাপ্লাজার মালিক ছিল ছিল আওয়ামী নেতা। এমন সব নেতা-পাতি নেতাদের প্রতিষ্ঠান ক্ষমতার বলে যত্র-তত্র, যেন-তেনভাবে গড়ে উঠছে। আগামীতেও এমন সব ঘটনা ঘটতেই থাকবে। নানা ধরনের তদন্ত কমিটি হবে, বিশেষজ্ঞগণ মতামত দেবেন। তারপরও ঘটনা ঘটতেই থাকবে।  যতদিন ফ্যাসিবাদী সরকার, গণবিরোধী বড় বুর্জোয়া শাসকশ্রেণি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবে ততদিন এই অঘটন ঘটতেই থাকবে। 

তাই সকল নিপীড়িত শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।  তবেই নিপীড়িত জনগণ এ জাতীয় মর্মান্তিক ‘দুর্ঘটনা’ থেকে মুক্তি পাবেন।

ঢাকার বঙ্গবাজারসহ কয়েকটি মার্কেটে রহস্যজনক আগুন হাজার কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই, নিঃস্ব মানুষ

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শুক্রবার, ১২ মে ২০২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেই চলছে। এপ্রিল ৪ তারিখে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়েছে দেশের সবচাইতে বৃহৎ কাপড়ের মার্কেট ঢাকার বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স। এই কমপ্লেক্সে চারটি বিপনীবিতান– বঙ্গবাজার, গুলিস্তান, মহানগরী ও আদর্শ মার্কেট। আশে-পাশের বিপনীবিতানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মতে শুধু বঙ্গবাজারেই ৫ হাজার ব্যবসায়ীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা; ১৫ হাজারের বেশি কর্মচারী সব হারিয়ে পথে পড়ে গেছেন। বঙ্গবাজার মার্কেটটি স্বল্পআয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ে পণ্য কেনার বাজারও বটে। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। ব্যবাসায়ীরা নিঃস্ব হয়েছেন। আগুন নেভাতে ফায়ার স্টেশন ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গবাজারের আগুন নেভাতে পানি ছিল না। এতো উন্নয়ন! তবু এতো কাছের আগুনের হামলা এ রাষ্ট্র মোকাবিলা করতে পারছে না।

এটা কি নিছক দুর্ঘটনা– যা কিনা দেখাতে চাইছে সরকারের বড় বড় চাঁইরা? নাকি কোনো ষড়যন্ত্র ছিল– অনেক দোকান মালিকই যা বলছেন? এ অগ্নিকাণ্ডে লাভ হলো কার? জমির মালিক হবার দৌড়ে কারা ছিল? মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সস্তা কাপড়ের প্রতিদ্বন্দ্বী কারা ছিল? সরকার এগুলো খতিয়ে দেখবে না। কারণ তা হলে নিজের গায়েই এসে তা পড়বে।

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দায় রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অস্বীকার করেছে। এরা প্রত্যেকেই সাধারণ দোকানদারদেরকেই এর জন্য দায়ী করেছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত। ফায়ার সার্ভিস বলেছে তারা ৪ বছর পূর্বেই অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল এবং বেশ কিছু ব্যানারও টানিয়েছিল। সবাই জানতো এই কমপ্লেক্স বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু সরকারের কোনো সংস্থাই অগ্নি প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের মালিকানায় রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স ভেঙ্গে নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দোকান মালিক সমিতির নেতাদের বাধার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ভবনগুলো ভেঙ্গে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, এ ধরনের জমি দখলের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড। 

বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করতো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সব দলের নেতারা মিলেমিশে এই কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করতো। নতুন ভবন নির্মাণ হলে ব্যবসায়ীদের নেতাদের আধিপত্য কমে যাবে, তাই তারা সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে দেয়নি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পুলিশ ব্যারাক রক্ষা করতেই ব্যস্ত ছিল। ফলে ক্ষুব্ধ কিছু মানুষ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপর ইঁট-পাটকেল ছুঁড়েছিল। ‘জনদরদী’ প্রধানমন্ত্রী এদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু জমি দখল নিয়ে বড় বেনিফিসিয়ারিদের ষড়যন্ত্রকে শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেন নি। অল্প সময়ে আগুন নেভানোর ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হচ্ছে উৎসুক জনতার ভীড় ও পানির অভাবকে। বাস্তবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ করে শাসকশ্রেণি এবং সরকারই খাল-বিল-ঝিল ভরাট করে ঢাকা শহর এবং আশে-পাশে পানি শূন্য করেছে। তার দায়ও তাদেরই।

এখন দেখা যাচ্ছে– বহুতল ভবন নির্মাণের চক্রান্তে আগুন লাগানো হোক বা বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের আগুন-ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও গাফিলতির কারণেই হোক, আগুন লেগে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব হওয়া এবং হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতি হওয়ার জন্য ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার, তাদের ব্যবসায়ী নেতারা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনই দায়ী। 

এ জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।  ব্যবসা করার জন্য বর্তমানে তাদেরকে উপযুক্ত যায়গা দিতে হবে, বিনাসুদে ঋণ দিতে হবে এবং বঙ্গবাজারে নতুন ভবন/অবকাঠামো নির্মাণ করে স্বল্পদামে ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান বরাদ্দ করতে হবে। দোকান কর্মচারীদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে, কাজের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা দিতে হবে। ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের  পক্ষে এই দাবি তোলা জরুরি। সর্বস্তরের জনগণকেও ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের পক্ষে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। মার্কেটগুলোকে ঘিরে আমলা, বড় বুর্জোয়া ও বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর গডফাদারদের হরিলুটের অবসান করতে হবে। 

শুধু বঙ্গবাজারই নয়, বঙ্গবাজারের আগুনের পর পরই আরো কয়েকটি মার্কেট একইভাবে আগুনে পুড়ে ভষ্ম হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে শত শত শ্রমিক-জনতা আহত নিহত হচ্ছেন এবং বহু সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। গত ৪ মার্চ’২৩-এ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসুল এলাকায় “সীমা অক্সিজেন অক্সিকো লিমিটেড নামের” কারখানায় ভয়াবহ বিষ্ফোরণ ঘটে। এতে প্রাণ হারান ৭ জন, আহত হন ৩৩ জন। এই বিষ্ফোরণের একদিন পরই রাজধানীর সায়েন্সল্যাবে একটি ভবনে বিষ্ফোরণে ৩ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। ৭ মার্চ ঢাকার সিদ্দিক বাজারের নর্থ সাউথ রোডের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত দুই শতাধিক। আগুনের তালিকা দিয়ে শেষ করা যাবে না। এর পরে আগুন লেগেছে নিউ মার্কেট এলাকায় আরেকটি মার্কেটে। রহস্যজনক বিষয় হলো, বড় আগুনের ঘটনাগুলো ঘটেছে ঈদের আগে এবং কাপড়ের মার্কেটগুলোতে। এর কারণ কী?

ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর প্রতিদিন গড়ে ৬৬টির বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এবং আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৮ জন। আহতের সংখ্যা চার শতাধিক। হতাহতের বেশির ভাগ ঘটনাই শিল্প-কারখানায়।

 প্রতি বছর অগ্নিকাণ্ড বা এ জাতীয় ঘটনা ঘটার পর জনরোষ নিরসনে ফ্যাসিবাদী সরকার লোক দেখানো গতানুগতিক তদন্ত কমিটি করে। কিন্তু উত্তেজনা মিইয়ে যাওয়ার পর তার কোনো হদিশ থাকে না। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েই শেষ। দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না। গণবিরোধী রাষ্ট্রব্যবস্থার সব কাঠামোই গঠিত হয় যেন-তেনভাবে, অল্প বিনিয়োগে বেশি মুনাফার উদ্দেশ্যে। সরকারি কর্মকর্তারা ঘুসের বিনিময়ে এগুলো অনুমোদন করে। জনগণের উপর তাদের কোনো দায়ভার নেই, নিজেদের আখের গুছানোই তাদের কাজ– এটিই রাষ্ট্রব্যবস্থা।  

চট্টগ্রামের বিএম কেনটেইনারের মালিক ছিল আওয়ামী লীগের নেতা। রানাপ্লাজার মালিক ছিল ছিল আওয়ামী নেতা। এমন সব নেতা-পাতি নেতাদের প্রতিষ্ঠান ক্ষমতার বলে যত্র-তত্র, যেন-তেনভাবে গড়ে উঠছে। আগামীতেও এমন সব ঘটনা ঘটতেই থাকবে। নানা ধরনের তদন্ত কমিটি হবে, বিশেষজ্ঞগণ মতামত দেবেন। তারপরও ঘটনা ঘটতেই থাকবে।  যতদিন ফ্যাসিবাদী সরকার, গণবিরোধী বড় বুর্জোয়া শাসকশ্রেণি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবে ততদিন এই অঘটন ঘটতেই থাকবে। 

তাই সকল নিপীড়িত শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণক্ষমতা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।  তবেই নিপীড়িত জনগণ এ জাতীয় মর্মান্তিক ‘দুর্ঘটনা’ থেকে মুক্তি পাবেন।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র