• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
কমরেড শাহজাহান সরকার স্মরণে
কমরেড শাহজাহান সরকার স্মরণে

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শনিবার, ৬ আগস্ট ২০২২  |  অনলাইন সংস্করণ

নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার অন্যতম সহ-সভাপতি কমরেড শাহজাহান সরকার গত ১৫ মে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলায়। তিনি গত ১৫ মে’২২ দিবাগত রাত ২টায় দিনাজপুর জেলার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে সুনির্দিষ্ট কোনো রোগ ধরা পড়ার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বৎসর।

পারিবারিকভাবে তিনি সামন্ত পরিবারের বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্রসন্তান ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। ছাত্র জীবনের শুরুতে তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)র শফিউল আলম প্রধানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ভারত-আওয়ামী লীগ বিরোধী ছিলেন।

১৯৮৪/৮৫ সালের দিকে বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন (বর্তমানে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন)-র সাথে সংযোগ-সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তিনি মাওবাদ গ্রহণ করেন এবং বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। সংগঠন-সংগ্রামে তার অগ্রসর ভূমিকার জন্য অচিরেই তিনি বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের ১৯৮৭ সালের ১ম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন।

তিনি বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে এরশাদের সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি তার দায়িত্ব নতুন কমিটির হাতে অর্পণ করে বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন-এর ঘোষণাপত্র-গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিক্ষা জীবন অসমাপ্ত রেখেই শ্রমিক-কৃষকের সাথে একাত্ম হওয়া এবং তাদের মধ্যে সংগঠন-সংগ্রাম গড়ে তোলার দায়িত্বে নিয়োজিত হন। তিনি বেশ কয়েক বছর শ্রমিক এবং কৃষকের মাঝে বিপ্লবী সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলা এবং নিজের পুনর্গঠনের জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তার দুর্বলতা ছিল এবং কয়েকবছর পর তিনি ব্যক্তি জীবনে ফিরে যান।

ক. শাহজাহান সার্বক্ষণিক বা পেশা বিপ্লবী হিসেবে ভূমিকা না রাখতে পারলেও আজীবন মাওবাদী ছিলেন এবং বিপ্লবের পক্ষে ভূমিকা রেখে গেছেন। তিনি শ্রমিক-কৃষকের পক্ষে লেখালেখি করেছেন। তিনি ২০১২/১৩ সালে বাসদের জাতীয় সম্মেলনে নেপালের বিপ্লবী যুদ্ধ বর্জনকারী সংশোধনবাদী নেতা প্রচণ্ডের উপস্থিত হওয়ার ঘোষণার প্রেক্ষিতে গুলিস্তান চত্বরে বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব প্রদান করেন। তিনি বিভিন্ন বিপ্লবী/গণতান্ত্রিক সংগঠন-শক্তির সভা-সমাবেশে মাওবাদ ও শ্রমিক-কৃষকের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন।

তিনি ১৯৯৩ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ‘গণজালোর জীবন রক্ষা’ আন্তর্জাতিক কমিটির সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নেয়া দুজন বুদ্ধিজীবীর একজন। এ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সমাবেশে তিনি জার্মানি, ভারতের কলকাতা ও দিল্লি এবং নেপালেও বক্তব্য রেখেছেন। তিনি ২০০৭ সালে বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের মুখপত্র “আন্দোলন” পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে ভারতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

তিনি বেশ কিছু লেখালেখি করেছেন। তার লেখা ও প্রকাশিত বইগুলো হচ্ছে-

- পেরুর আকাশে উড়ছে লাল তারা, মাওবাদ বনাম আধুনিক সংশোধনবাদ, ’৭১-এর কান্না, (অসমাপ্ত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস), বাংলাদেশের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শ্রেণি সংগ্রামের সমস্যা এবং কবিতার বই শানপাথর। তিনি দৈনিক পত্রিকা বণিক-বার্তায় কলাম লিখতেন। তিনি এই পত্রিকায় মাওবাদী আদর্শকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখাসহ বহু বিষয়ের উপর কলাম লিখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের মাওবাদী বুদ্ধিজীবী হিসেবে লেখকদের মধ্যে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

কমরেড শাহজাহান সরকারের কাছ থেকে নতুন প্রজন্মের বিপ্লবীদের শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। যারা বিবিধ কারণে পেশা বিপ্লবী হিসেবে ভূমিকা রাখতে না পারেন তারাও আজীবনে বিপ্লবের পক্ষে ভূমিকা রাখতে পারেন। কমরেড শাহজাহান সরকার স্মরণে ৩ জুন’২২ ঢাকার শাহবাগ এলাকায় সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার উদ্যোগে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

কমরেড শাহজাহান সরকার স্মরণে

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শনিবার, ৬ আগস্ট ২০২২  |  অনলাইন সংস্করণ

নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার অন্যতম সহ-সভাপতি কমরেড শাহজাহান সরকার গত ১৫ মে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলায়। তিনি গত ১৫ মে’২২ দিবাগত রাত ২টায় দিনাজপুর জেলার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে সুনির্দিষ্ট কোনো রোগ ধরা পড়ার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বৎসর।

পারিবারিকভাবে তিনি সামন্ত পরিবারের বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্রসন্তান ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। ছাত্র জীবনের শুরুতে তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)র শফিউল আলম প্রধানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ভারত-আওয়ামী লীগ বিরোধী ছিলেন।

১৯৮৪/৮৫ সালের দিকে বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন (বর্তমানে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন)-র সাথে সংযোগ-সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তিনি মাওবাদ গ্রহণ করেন এবং বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। সংগঠন-সংগ্রামে তার অগ্রসর ভূমিকার জন্য অচিরেই তিনি বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের ১৯৮৭ সালের ১ম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন।

তিনি বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে এরশাদের সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি তার দায়িত্ব নতুন কমিটির হাতে অর্পণ করে বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলন-এর ঘোষণাপত্র-গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিক্ষা জীবন অসমাপ্ত রেখেই শ্রমিক-কৃষকের সাথে একাত্ম হওয়া এবং তাদের মধ্যে সংগঠন-সংগ্রাম গড়ে তোলার দায়িত্বে নিয়োজিত হন। তিনি বেশ কয়েক বছর শ্রমিক এবং কৃষকের মাঝে বিপ্লবী সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলা এবং নিজের পুনর্গঠনের জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তার দুর্বলতা ছিল এবং কয়েকবছর পর তিনি ব্যক্তি জীবনে ফিরে যান।

ক. শাহজাহান সার্বক্ষণিক বা পেশা বিপ্লবী হিসেবে ভূমিকা না রাখতে পারলেও আজীবন মাওবাদী ছিলেন এবং বিপ্লবের পক্ষে ভূমিকা রেখে গেছেন। তিনি শ্রমিক-কৃষকের পক্ষে লেখালেখি করেছেন। তিনি ২০১২/১৩ সালে বাসদের জাতীয় সম্মেলনে নেপালের বিপ্লবী যুদ্ধ বর্জনকারী সংশোধনবাদী নেতা প্রচণ্ডের উপস্থিত হওয়ার ঘোষণার প্রেক্ষিতে গুলিস্তান চত্বরে বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব প্রদান করেন। তিনি বিভিন্ন বিপ্লবী/গণতান্ত্রিক সংগঠন-শক্তির সভা-সমাবেশে মাওবাদ ও শ্রমিক-কৃষকের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন।

তিনি ১৯৯৩ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ‘গণজালোর জীবন রক্ষা’ আন্তর্জাতিক কমিটির সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নেয়া দুজন বুদ্ধিজীবীর একজন। এ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সমাবেশে তিনি জার্মানি, ভারতের কলকাতা ও দিল্লি এবং নেপালেও বক্তব্য রেখেছেন। তিনি ২০০৭ সালে বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের মুখপত্র “আন্দোলন” পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে ভারতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

তিনি বেশ কিছু লেখালেখি করেছেন। তার লেখা ও প্রকাশিত বইগুলো হচ্ছে-

- পেরুর আকাশে উড়ছে লাল তারা, মাওবাদ বনাম আধুনিক সংশোধনবাদ, ’৭১-এর কান্না, (অসমাপ্ত আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস), বাংলাদেশের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শ্রেণি সংগ্রামের সমস্যা এবং কবিতার বই শানপাথর। তিনি দৈনিক পত্রিকা বণিক-বার্তায় কলাম লিখতেন। তিনি এই পত্রিকায় মাওবাদী আদর্শকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখাসহ বহু বিষয়ের উপর কলাম লিখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের মাওবাদী বুদ্ধিজীবী হিসেবে লেখকদের মধ্যে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

কমরেড শাহজাহান সরকারের কাছ থেকে নতুন প্রজন্মের বিপ্লবীদের শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। যারা বিবিধ কারণে পেশা বিপ্লবী হিসেবে ভূমিকা রাখতে না পারেন তারাও আজীবনে বিপ্লবের পক্ষে ভূমিকা রাখতে পারেন। কমরেড শাহজাহান সরকার স্মরণে ৩ জুন’২২ ঢাকার শাহবাগ এলাকায় সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার উদ্যোগে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র