• শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নতুন সরকারের জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচি ও নিপীড়িত জনগণের মুক্তি

নতুন সরকারের জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচি ও নিপীড়িত জনগণের মুক্তি

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতার দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি’২৬-এ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এবং বিরোধী জোটে রয়েছে জামাত-এনসিপি জোট। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেই তার প্রতিশ্রুতি মতো কর্মসূচি উদ্বোধন করে চলেছে। প্রথমেই ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ ঘোষণার সাথে ফ্যামিলি কার্ড, খালকাটা কর্মসূচি, ইমাম-ধর্মগুরুদের ভাতা, খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা, কৃষক কার্ড– ইত্যাদির উদ্বোধন করেছে। স্বাস্থ্য কার্ড এবং বেকার ভাতাও চালু করার কথা। নতুনভাবে গ্যাসের জন্য এলপিজি ফামিলি কার্ড দেয়ার কথাও বলছে। আওয়ামী ‘মেগা উন্নয়ন’ শুনতে শুনতে জনগণ বিরক্ত। এখন বিএনপি’র নতুন আমদানি ‘কার্ড কর্মসূচি’। কাম যাই হোক নামটা এদেশে নতুন। এ কর্মসূচিগুলো সবে বাস্তবায়নের শিশু অবস্থায়। কিছু পাইলট প্রকল্প চলছে। সমগ্রটা তারা আগামী ৫ বছরে সম্পূর্ণ করবে বলছে। সেটা অবশ্য সামনে দেখার বিষয়।

সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত ৫৫ বছরে এমন বহু জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচি জনগণ দেখেছে। ফ্যাসিবাদী হাসিনাও ভিন্ননামে জনগণকে কিছু আর্থিক সুবিধা দিতো। তাদের কর্মসূচির মধ্যে ‘গুচ্ছ গ্রাম’, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, টিসিবি বিক্রয়কেন্দ্র, একধরনের ফ্যামিলি কার্ড, মডেল মসজিদ, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি ও বিস্তার– ইত্যাদিতে ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের দারিদ্র মোচন হয়নি। সাম্রাজ্যবাদ, দালাল মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াশ্রেণির শোষণ-নিপীড়নে জর্জরিত নিঃস্ব জনগণকে খুদ-কুঁড়ো দিয়ে পোষ মানানোর মতো কর্মসূচি এগুলো। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা অক্ষণ্ন রেখে এই সব জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচি, মেগা প্রকল্পে ধনী আরো ধনী এবং গরিব আরো গরিব হয়েছে/হচ্ছে। বিএনপি সরকারের এই কর্মসূচিতেও শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র-নারী-আদিবাসীসহ নিপীড়িত জনগণের শোষণ-নিপীড়ন থেকে মুক্তি হবে না।  হাসিনা আমলের পুরানো জিনিস জনগণ আর খাচ্ছেন না। বিএনপি পুরানো বোতলে নতুন মদ ‘জনকল্যাণমূলক’ নতুন কার্ড কর্মসূচি আমদানি করেছে। জনগণকে নগদ কিছু অর্থ সুবিধা দেয়া ব্যক্তি তারেক রহমান বা বিএনপি’র নতুন আবিস্কার নয়। এই কর্মসূচি হচ্ছে তাদের পৃষ্ঠপোষক সাম্রাজ্যবাদীদের পরিকল্পনারই অংশ। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে এমন বহু জনকল্যাণমূলক পলিসি রয়েছে। সরকার বদলের সাথে সাথে সেগুলো পরিবর্তন হয়। এটা বুর্জোয়াদের এক পুরানো রাজনীতি– তাদের ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য। বুর্জোয়া অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসলেও এমন নতুন কিছু দেখাতো।

কারণ সাম্রাজ্যবাদ এবং দালাল শাসকশ্রেণি বছরের পর বছর জনগণের উপর শোষণ-নিপীড়ন চালায়। সেই শোষণ করা সম্পদ/টাকার একটি ছোট অংশ সাম্রাজ্যবাদ-শাসকশ্রেণি জনতুষ্টিবাদী বিভিন্ন নামের কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে ভাগ দিয়ে সন্তুষ্ট রাখতে চায়। তা না হলে ক্ষুধার্ত শোষিত জনগণ ক্ষুদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ করতে পারেÑ বিপ্লবী সংগঠনে যোগ দিতে পারে, বিদ্রোহী জনতা তাদের শোষণের প্রাসাদ ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে পারে। তাদের ভাবনা এমন ‘জনকল্যাণমূলক’ কর্মসূচি তাদের শোষণমূলক ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখবে। এনজিওদের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পও সাম্রাজ্যবাদীদের কর্মসূচি যা জনরোষকে প্রশমিত করার ফাঁদ। সাম্রাজ্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণির কোনো গোষ্ঠীরই শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র-নারী-আদিবাসীসহ নিপীড়িত জনগণের সার্বিক মুক্তির কোনো কর্মসূচি নেই। তারা বারবার রূপ পাল্টিয়ে নতুন বন্দোবস্তের নামে পুরানো বন্দোবস্তই বহাল রাখছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি-জামাত-এনসিপি একই শ্রেণি একই জাত। তাদের মধ্যকার কোন্দল হচ্ছে ক্ষমতা ভাগাভাগির কোন্দল মাত্র।

তাই শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র-নারী-আদিবাসীসহ সকল নিপীড়িত জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচির ভিত্তিতে বিপ্লবী সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্য কোনো বিকল্প নেই।

নতুন সরকারের জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচি ও নিপীড়িত জনগণের মুক্তি

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতার দেড় বছর পর ১২ ফেব্রুয়ারি’২৬-এ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এবং বিরোধী জোটে রয়েছে জামাত-এনসিপি জোট। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা গ্রহণ করেই তার প্রতিশ্রুতি মতো কর্মসূচি উদ্বোধন করে চলেছে। প্রথমেই ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ ঘোষণার সাথে ফ্যামিলি কার্ড, খালকাটা কর্মসূচি, ইমাম-ধর্মগুরুদের ভাতা, খেলোয়াড়দের জন্য ভাতা, কৃষক কার্ড– ইত্যাদির উদ্বোধন করেছে। স্বাস্থ্য কার্ড এবং বেকার ভাতাও চালু করার কথা। নতুনভাবে গ্যাসের জন্য এলপিজি ফামিলি কার্ড দেয়ার কথাও বলছে। আওয়ামী ‘মেগা উন্নয়ন’ শুনতে শুনতে জনগণ বিরক্ত। এখন বিএনপি’র নতুন আমদানি ‘কার্ড কর্মসূচি’। কাম যাই হোক নামটা এদেশে নতুন। এ কর্মসূচিগুলো সবে বাস্তবায়নের শিশু অবস্থায়। কিছু পাইলট প্রকল্প চলছে। সমগ্রটা তারা আগামী ৫ বছরে সম্পূর্ণ করবে বলছে। সেটা অবশ্য সামনে দেখার বিষয়।

সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল আমলা-মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া শ্রেণির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত ৫৫ বছরে এমন বহু জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচি জনগণ দেখেছে। ফ্যাসিবাদী হাসিনাও ভিন্ননামে জনগণকে কিছু আর্থিক সুবিধা দিতো। তাদের কর্মসূচির মধ্যে ‘গুচ্ছ গ্রাম’, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, টিসিবি বিক্রয়কেন্দ্র, একধরনের ফ্যামিলি কার্ড, মডেল মসজিদ, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি ও বিস্তার– ইত্যাদিতে ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের দারিদ্র মোচন হয়নি। সাম্রাজ্যবাদ, দালাল মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াশ্রেণির শোষণ-নিপীড়নে জর্জরিত নিঃস্ব জনগণকে খুদ-কুঁড়ো দিয়ে পোষ মানানোর মতো কর্মসূচি এগুলো। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা অক্ষণ্ন রেখে এই সব জনতুষ্টিবাদী কর্মসূচি, মেগা প্রকল্পে ধনী আরো ধনী এবং গরিব আরো গরিব হয়েছে/হচ্ছে। বিএনপি সরকারের এই কর্মসূচিতেও শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র-নারী-আদিবাসীসহ নিপীড়িত জনগণের শোষণ-নিপীড়ন থেকে মুক্তি হবে না।  হাসিনা আমলের পুরানো জিনিস জনগণ আর খাচ্ছেন না। বিএনপি পুরানো বোতলে নতুন মদ ‘জনকল্যাণমূলক’ নতুন কার্ড কর্মসূচি আমদানি করেছে। জনগণকে নগদ কিছু অর্থ সুবিধা দেয়া ব্যক্তি তারেক রহমান বা বিএনপি’র নতুন আবিস্কার নয়। এই কর্মসূচি হচ্ছে তাদের পৃষ্ঠপোষক সাম্রাজ্যবাদীদের পরিকল্পনারই অংশ। পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে এমন বহু জনকল্যাণমূলক পলিসি রয়েছে। সরকার বদলের সাথে সাথে সেগুলো পরিবর্তন হয়। এটা বুর্জোয়াদের এক পুরানো রাজনীতি– তাদের ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য। বুর্জোয়া অন্য কোনো দল ক্ষমতায় আসলেও এমন নতুন কিছু দেখাতো।

কারণ সাম্রাজ্যবাদ এবং দালাল শাসকশ্রেণি বছরের পর বছর জনগণের উপর শোষণ-নিপীড়ন চালায়। সেই শোষণ করা সম্পদ/টাকার একটি ছোট অংশ সাম্রাজ্যবাদ-শাসকশ্রেণি জনতুষ্টিবাদী বিভিন্ন নামের কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে ভাগ দিয়ে সন্তুষ্ট রাখতে চায়। তা না হলে ক্ষুধার্ত শোষিত জনগণ ক্ষুদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ করতে পারেÑ বিপ্লবী সংগঠনে যোগ দিতে পারে, বিদ্রোহী জনতা তাদের শোষণের প্রাসাদ ভেঙ্গে চুরমার করে দিতে পারে। তাদের ভাবনা এমন ‘জনকল্যাণমূলক’ কর্মসূচি তাদের শোষণমূলক ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখবে। এনজিওদের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পও সাম্রাজ্যবাদীদের কর্মসূচি যা জনরোষকে প্রশমিত করার ফাঁদ। সাম্রাজ্যবাদের দালাল শাসকশ্রেণির কোনো গোষ্ঠীরই শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র-নারী-আদিবাসীসহ নিপীড়িত জনগণের সার্বিক মুক্তির কোনো কর্মসূচি নেই। তারা বারবার রূপ পাল্টিয়ে নতুন বন্দোবস্তের নামে পুরানো বন্দোবস্তই বহাল রাখছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি-জামাত-এনসিপি একই শ্রেণি একই জাত। তাদের মধ্যকার কোন্দল হচ্ছে ক্ষমতা ভাগাভাগির কোন্দল মাত্র।

তাই শ্রমিক-কৃষক-দরিদ্র-নারী-আদিবাসীসহ সকল নিপীড়িত জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে নয়াগণতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচির ভিত্তিতে বিপ্লবী সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্য কোনো বিকল্প নেই।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র