• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ৭ম জাতীয় কাউন্সিল সফলভাবে অনুষ্ঠিত

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ৭ম জাতীয় কাউন্সিল সফলভাবে অনুষ্ঠিত

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

২১ নভেম্বর ২০২৫ টিএসসির পায়রা চত্ত্বরে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ৭ম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।    মাওবাদী কবি, "শহিদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ এর সভাপতি কমরেড হাসান ফকরী বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের পতাকা উত্তোলনের সাথেই আন্তর্জাতিক সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কাউন্সিল উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পূর্বে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ব্যানার-ফেস্টুন-লাল পতাকা সজ্জিত একটি বর্ণাঢ্য মিছিল টিএসসি থেকে ভিসি চত্ত্বর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছায়।    উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড তাওফিকা প্রিয়া এবং সঞ্চালনা করেন কমরেড বিপ্লব ভট্টাচার্য্য।    শুরুতেই অপারেশন কাগারে শহিদ ও ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বে সাম্রাজ্য-বাদের অন্যায় যুদ্ধে শহিদ নিপীড়িত জনগণ এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন ও নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা ও তার অন্তর্ভুক্ত সংগঠনসমূহের প্রয়াত কমরেডদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ: এবং ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপর কমরেড ঈশা দের পরিচালনায় বিপ্লবী গান পরিবশেন করা হয়। উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য রাখেন। "শহিদ বিপ্লবী ও স্মৃতি দেশপ্রেমিক সংসদ" এর সভাপতি কমরেড হাসান ফকরী, বর্তমান বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন (পূর্বের বিপ্লবী : ছাত্র আন্দোলন)-এর সম্পাদক প্রাক্তন নেতা এবং খনন পত্রিকার কমরেড বাদল শাহ আলম এবং কমরেড আবু বক্কর সিদ্দিক রুমেল। আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সর্বজনাব হারুন অর-রশিদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ- সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক কমরেড রাজ্জাক, বিপ্লবী নারী মুক্তির সংগঠক সাদিয়া আফরোজ, আদিবাসী মুক্তি মোর্চার সংগঠক লাবণী তঞ্চঙ্গ্যা, নয়াগণতান্ত্রিক  এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক কমরেড নাঈম উদ্দীন।  বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যত্থানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে তামাশা করে সাম্রাজ্যবাদের দালাল সরকার একের পর এক গণ-বিরোধী ও দেশ-বিরোধী কার্যক্রম করে যাচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ভূলুণ্ঠিত করেছে এই অন্তর্বর্তী সরকার। সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল দেশ-বিরোধী ও গণবিরোধী কার্যক্রমকে রুখে দিতে হবে এবং সংস্কার নয়, সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের লক্ষ্যে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-নারী-আদিবাসী সহ ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার-সংবিধান-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।  বক্তারা আরও বলেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়াতে হলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে বিরোধিতা করতে হবে। কারণ, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদে-সাহায্যে ফিলিস্তিনে ইসরায়েল বর্বর গণহত্যা চালাচ্ছে। সামাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদকে বিরোধিতা করতে হলে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের সাথে সম্পাদিত দেশ-বিরোধী সকল প্রকাশ্য- গোপন চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ এবং বাতিল করতে হবে।  সভাপতি সমাপনী বক্তব্যে ভারতের হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট মোদি সরকার কর্তৃক চলমান সামরিক অভিযান "অপারেশন কাগার" অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। আদিবাসীদের জল-জমি-জঙ্গল বহুজাতিক কোম্পানি গুলোতে দেয়া চলবে না। ভারতে চলমান গণযুদ্ধকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন জানিয়ে বলেন, গণযুদ্ধের শহিদদের রক্তে রাঙা পথই মানব মুক্তির একমাত্র পথ।    কাউন্সিলের মূল অধিবেশন শুরু হয় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি অধিবেশন পরিচালনা করে। রাজনৈতিক প্রস্তাবাবলি, সাংগঠনিক রিপোর্ট, ঘোষণাপত্র-গঠনতন্ত্রের উপর বিস্তর এবং প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। এবং কিছু সংশোধনী-সংযোজনী প্রস্তাবসহ দলিলপত্র সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।  এর পর প্রস্তাবিত নতুন জাতীয় কমিটির প্যানেল পেশ হয় এবং তাদের মূল্যায়ন পেশ করা হয়।    কিছু প্রশ্ন, আলোচনা-পর্যালোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে কমরেড তাওফিকা প্রিয়াকে সভাপতি, কমরেড নাঈম উদ্দীন ও কমরেড আব্দুল্লাহ আল মতিন বাদশাকে সহ-সভাপতি করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে।    নবগঠিত কমিটি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের ভিত্তিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন সংগ্রাম-সংগঠন গড়ে তোলা এবং প্রচার-প্রসারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ৭ম জাতীয় কাউন্সিল সফলভাবে অনুষ্ঠিত

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

২১ নভেম্বর ২০২৫ টিএসসির পায়রা চত্ত্বরে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ৭ম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।    মাওবাদী কবি, "শহিদ বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক স্মৃতি সংসদ এর সভাপতি কমরেড হাসান ফকরী বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের পতাকা উত্তোলনের সাথেই আন্তর্জাতিক সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কাউন্সিল উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পূর্বে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ব্যানার-ফেস্টুন-লাল পতাকা সজ্জিত একটি বর্ণাঢ্য মিছিল টিএসসি থেকে ভিসি চত্ত্বর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছায়।    উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড তাওফিকা প্রিয়া এবং সঞ্চালনা করেন কমরেড বিপ্লব ভট্টাচার্য্য।    শুরুতেই অপারেশন কাগারে শহিদ ও ফিলিস্তিনসহ সারা বিশ্বে সাম্রাজ্য-বাদের অন্যায় যুদ্ধে শহিদ নিপীড়িত জনগণ এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন ও নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা ও তার অন্তর্ভুক্ত সংগঠনসমূহের প্রয়াত কমরেডদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ: এবং ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তারপর কমরেড ঈশা দের পরিচালনায় বিপ্লবী গান পরিবশেন করা হয়। উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য রাখেন। "শহিদ বিপ্লবী ও স্মৃতি দেশপ্রেমিক সংসদ" এর সভাপতি কমরেড হাসান ফকরী, বর্তমান বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন (পূর্বের বিপ্লবী : ছাত্র আন্দোলন)-এর সম্পাদক প্রাক্তন নেতা এবং খনন পত্রিকার কমরেড বাদল শাহ আলম এবং কমরেড আবু বক্কর সিদ্দিক রুমেল। আরো শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সর্বজনাব হারুন অর-রশিদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ- সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক কমরেড রাজ্জাক, বিপ্লবী নারী মুক্তির সংগঠক সাদিয়া আফরোজ, আদিবাসী মুক্তি মোর্চার সংগঠক লাবণী তঞ্চঙ্গ্যা, নয়াগণতান্ত্রিক  এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক কমরেড নাঈম উদ্দীন।  বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যত্থানে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে তামাশা করে সাম্রাজ্যবাদের দালাল সরকার একের পর এক গণ-বিরোধী ও দেশ-বিরোধী কার্যক্রম করে যাচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ভূলুণ্ঠিত করেছে এই অন্তর্বর্তী সরকার। সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল দেশ-বিরোধী ও গণবিরোধী কার্যক্রমকে রুখে দিতে হবে এবং সংস্কার নয়, সমাজতন্ত্র-কমিউনিজমের লক্ষ্যে শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত-নারী-আদিবাসী সহ ব্যাপক নিপীড়িত জনগণের প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার-সংবিধান-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।  বক্তারা আরও বলেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়াতে হলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে বিরোধিতা করতে হবে। কারণ, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদে-সাহায্যে ফিলিস্তিনে ইসরায়েল বর্বর গণহত্যা চালাচ্ছে। সামাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদকে বিরোধিতা করতে হলে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের সাথে সম্পাদিত দেশ-বিরোধী সকল প্রকাশ্য- গোপন চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ এবং বাতিল করতে হবে।  সভাপতি সমাপনী বক্তব্যে ভারতের হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ট মোদি সরকার কর্তৃক চলমান সামরিক অভিযান "অপারেশন কাগার" অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান। আদিবাসীদের জল-জমি-জঙ্গল বহুজাতিক কোম্পানি গুলোতে দেয়া চলবে না। ভারতে চলমান গণযুদ্ধকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন জানিয়ে বলেন, গণযুদ্ধের শহিদদের রক্তে রাঙা পথই মানব মুক্তির একমাত্র পথ।    কাউন্সিলের মূল অধিবেশন শুরু হয় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি অধিবেশন পরিচালনা করে। রাজনৈতিক প্রস্তাবাবলি, সাংগঠনিক রিপোর্ট, ঘোষণাপত্র-গঠনতন্ত্রের উপর বিস্তর এবং প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। এবং কিছু সংশোধনী-সংযোজনী প্রস্তাবসহ দলিলপত্র সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়।  এর পর প্রস্তাবিত নতুন জাতীয় কমিটির প্যানেল পেশ হয় এবং তাদের মূল্যায়ন পেশ করা হয়।    কিছু প্রশ্ন, আলোচনা-পর্যালোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে কমরেড তাওফিকা প্রিয়াকে সভাপতি, কমরেড নাঈম উদ্দীন ও কমরেড আব্দুল্লাহ আল মতিন বাদশাকে সহ-সভাপতি করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে।    নবগঠিত কমিটি মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-মাওবাদের ভিত্তিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন সংগ্রাম-সংগঠন গড়ে তোলা এবং প্রচার-প্রসারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র